বাড়িতে করোনা রোগীর সেবায় সাত পরামর্শ

0

করোনাভাইরাসের সংক্রমণে শতকরা ৮০-৮৫ ভাগ ক্ষেত্রে মৃদু উপসর্গ দেখা দেয়। এ ক্ষেত্রে আক্রান্ত ব্যক্তি বাড়িতে কোয়ারেন্টিনে থেকেই যথাযথ বিশ্রাম ও চিকিৎসায় সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ওঠেন। এই পরিস্থিতিতে বাড়িতে রোগীর যত্নের দায়িত্ব নিতে হয় পরিবারের কাউকে। পরিবারের সেই সদস্য হবেন সবচেয়ে সুস্থ, অপেক্ষাকৃত তরুণ ও সংক্রমণের ঝুঁকি কম, এমন একজন। এ ছাড়া রোগীর সেবা দেওয়ার সময় থাকতে হবে সতর্ক। মনে রাখতে হবে, একটু অসাবধান হলেই সেবা দানকারীও সংক্রমিত হতে পারেন এবং তাঁর মাধ্যমে বাড়ির অন্যরাও আক্রান্ত হতে পারেন। কাজেই কিছু বিষয় অবশ্যই মেনে চলতে হবে:

. আক্রান্ত ব্যক্তি ঠিকমতো বিশ্রাম নিচ্ছেন কি না বা প্রচুর পরিমাণে পানি কিংবা নিয়মিত পুষ্টিকর খাবার খাচ্ছেন কি না, সেদিকে খেয়াল রাখুন।

. সংক্রমিত ব্যক্তি যে ঘরে আছেন, ওই ঘরে ঢুকতে হলে অবশ্যই মাস্ক ব্যবহার করুন। মাস্কে বা মুখে যেন হাত না লাগে। সংক্রমিত ব্যক্তির ঘর থেকে বের হওয়ার সময় মাস্কটি ঢাকনাযুক্ত নির্দিষ্ট পাত্রে ফেলুন। বারবার তার ঘরে যাওয়ার দরকার নেই। গেলেও অন্তত ৩ ফুট দূরত্বে থাকুন। তবে সারা দিনে ও রাতে ফোনে বা ভিডিও কলে রোগীর সঙ্গে যোগাযোগ রাখুন।

. সংক্রমিত ব্যক্তির ব্যবহার করা কাপড়চোপড় বা অন্য জিনিসের সংস্পর্শে এলে অবশ্যই সাবান-পানি, হ্যান্ড স্যানিটাইজার বা অ্যালকোহল বেসড হ্যান্ড রাব দিয়ে ভালো করে হাত পরিষ্কার করুন। এ ছাড়া অন্যান্য সময়েও, যেমন খাবার প্রস্তুত করার আগে-পরে, খাবার খাওয়ার আগে, টয়লেটের পর ভালো করে হাত ধুতে হবে।

. আক্রান্ত ব্যক্তির জন্য আলাদা থালা-বাসন, বিছানার চাদর, তোয়ালে ইত্যাদি ব্যবহার করুন। খাবার নির্দিষ্ট সময়ে দরজার কাছে রেখে আসুন। খাওয়া শেষে গ্লাভস পরে জিনিসপত্র নিয়ে এসে সাবান-পানি দিয়ে ধুয়ে রাখুন। দিনে একবার বা দুবার মুখে মাস্ক আর গ্লাভস পরে জীবাণুনাশক তরল দিয়ে আক্রান্ত ব্যক্তির ঘর মুছে দিন।

. আক্রান্ত ব্যক্তির বর্জ্য, টিস্যু ইত্যাদি রোগী নিজে একটি পলিথিনে ভরে বিনে রাখবে। দিনে একবার আপনি গ্লাভস পরে বিনটি বাইরে নিয়ে এসে বর্জ্যগুলো পুড়িয়ে ফেলুন অথবা বদ্ধ বিনে ফেলুন।

. করোনা রোগী বারবার স্পর্শ করে এমন পৃষ্ঠ বা জিনিস, যেমন দরজার হাতল, সুইচ ইত্যাদি নিয়মিত পরিষ্কার ও জীবাণুনাশক দিয়ে জীবাণুমুক্ত করুন।

. রোগীর শ্বাসপ্রশ্বাসের হার খেয়াল করুন। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে বা শ্বাসকষ্ট হলে দ্রুত নিকটস্থ করোনা হাসপাতালে যোগাযোগ করে জরুরি চিকিৎসাসেবার ব্যবস্থা করুন।

লেখক: চিকিৎসা কর্মকর্তা উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্র, ডুমুরিয়া, খুলনা

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here